বিশ্বখ্যাত ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ডা. জাকির নায়েক আগামী ২৮ নভেম্বর ঢাকায় আসতে পারেন বলে একটি খবর বেরিয়েছে। জানা গেছে বাংলাদেশে দুইদিনের সফরে এসে একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা আছে তার। কিন্তু, জাকির নায়েক ঢাকায় এলে তাকে যেন গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ সরকার দিল্লির হাতে তুলে দেয়, সেজন্য আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ আহ্বান বাংলাদেশ সরকারের নজরেও এসেছে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম।
শনিবার (১ নভেম্বর) তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র একজন বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে যে মন্তব্য করেছেন, তা আমাদের নজরে এসেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম আরও বলেন, ‘আমরাও বিশ্বাস করি যে, কোনো দেশের অন্য দেশের অভিযুক্ত বা পলাতক ব্যক্তিকে আশ্রয় দেয়া উচিত নয়।’
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভারত আশা করে, জাকির নায়েক ঢাকা সফরে এলে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করবে।
তিনি বলেন, জাকির নায়েক একজন পলাতক আসামি। ভারতে তার খোঁজ চলছে। তাই আমরা আশা করি, সে যেখানেই যাক, সেখানকার লোকেরা তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে এবং আমাদের নিরাপত্তার উদ্বেগগুলো পূরণ করবে।
আরও পড়ুনঃ সচিবালয় অভিমুখে ইশরাক সমর্থকদের লংমার্চ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা
এর আগে, গত ২৮ অক্টোবর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, জাকির নায়েকের সফরের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবগত নয়। জাকির নায়েক রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসছেন এবং বিভিন্ন জেলায় ঘুরে তার কর্মসূচি পালন করবেন এমন প্রশ্নে ওইদিন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাকির নায়েককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বলে আমি জানি না। আমি এরকম কিছু শুনিনি।
তবে, গত ১২ অক্টোবর স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কর্ণধার রাজ গণমাধ্যমকে জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৮ নভেম্বর ঢাকায় আসবেন ডা. জাকির নায়েক। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওইদিন ঢাকার আগারগাঁওয়ে ডা. জাকির নায়েকের প্রথম প্রোগ্রামটি হবে। তবে কেবল ঢাকাতেই নয়, ঢাকার বাইরেও এই প্রোগ্রাম করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।
আরও পড়ুনঃ হাসপাতালের হিমঘর থেকে লাশের দুই চোখ গায়েব!
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের রোষানলে পড়ে ২০১৬ সালে নিজ দেশ ছেড়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান জাকির নায়েক। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেয়েছেন তিনি। ওই বছর তার পিস টিভির সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনে মোদি সরকার। পরে ২০১৬ সালে ঢাকায় হোলি হার্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার পর জাকির নায়েকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশের তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারও। এরপর গত বছর তার পতন হলে আলোচিত এ ইসলামিক স্কলারের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment