ঘুমন্ত মাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা, ছেলের মৃত্যুদণ্ড

 রংপুরে মাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার দায়ে ছেলে মো. জামিল মিয়া ভেলনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পারিবারিক কলহের জেরে ২০২২ সালে তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় মা জামিলা বেগমকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন। সাক্ষ্য–প্রমাণে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালত আজ এ রায় দেন।



রংপুরে মাকে হত্যার দায়ে মো. জামিল মিয়া ভেলন (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ রায় দেওয়া হয়। আসামি জামিল মিয়ার বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নাজিরদহ গ্রামে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী কাকলী খাতুনের সঙ্গে জামিল মিয়ার মা জামিলা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। একপর্যায়ে মনোমালিন্যের জেরে কাকলী বাবার বাড়ি চলে গেলে জামিল মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি ধারণা করেন, তাঁর স্ত্রী চলে যাওয়ার পেছনে মা দায়ী। এর পর থেকেই মা-ছেলের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। একই ঘরে বসবাস করতেন তাঁরা। এক রাতে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জামিল। ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট রাতে খাওয়ার পর মা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে জামিল তাঁর মায়ের মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর ঘরের মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে মায়ের মরদেহ সেখানে পুঁতে রাখেন।



ঘটনার পরপরই জামিল মাকে খুঁজে না পাওয়ার কথা সবাইকে জানান। কিন্তু কয়েকদিন পর মাটি থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে প্রতিবেশিরা সন্দেহ করে। ২৪ আগস্ট জামিলের মামাতো বোন রেজিনা ও কয়েকজন প্রতিবেশি ঘরটি তল্লাশি করতে গেলে প্রথমে জামিল আপত্তি জানালেও পরে দরজা খুলে দেয়। রেজিনা ঘরে ঢুকে খাটের নিচে উঁচু মাটি ও দুর্গন্ধ টের পান। সন্দেহে মাটি খুঁড়তেই মরদেহ দেখতে পান।


এ ঘটনায় স্থানীয়রা জামিলকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. ছামসুল হক বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।



মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আফতাব উদ্দিন এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. শামীম আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment

Previous Post Next Post